উমরার সকল সুযোগ সুবিধা সহ বিস্তারিত
( ইকোনোমি প্যাকেজ-০৫ )









মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে উমরাহ এক পরম আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের অনন্য মাধ্যম। যদিও এটি হজের মতো ফরজ নয়, তবুও একজন মুমিনের জীবনে উমরাহর গুরুত্ব অপরিসীম। এটি কেবল একটি সফর নয়, বরং এটি আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার এবং মহান আল্লাহর দরবারে নিজেকে সঁপে দেওয়ার এক পবিত্র সুযোগ। উমরাহ এর মাহাত্ম্য সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এক উমরাহ থেকে অন্য উমরাহ মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহের কাফফারা স্বরূপ। অর্থাৎ, হজের মতো উমরাহও মানুষের পাপ সমূহ ধুয়ে মুছে সাফ করে দেয় এবং একজন বান্দাকে নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ করার সুযোগ তৈরি করে। বায়তুল্লাহর চারপাশে তওয়াফ এবং সাফা-মারওয়ার সায়ীর মাধ্যমে একজন মুসলিম ইব্রাহিম (আঃ) ও হাজেরা (আঃ)-এর ত্যাগের স্মৃতি নিজের মধ্যে অনুভব করেন, যা তার ঈমানি শক্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষ করে মাহে রমজানে উমরাহ পালন করলে হজের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যায়, যা এই ইবাদতের মর্যাদাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা থেকে বিরতি নিয়ে পবিত্র কাবার গিলাফ ছুঁয়ে অশ্রু বিসর্জন দেওয়া এবং নিজের অভাব-অভিযোগ সরাসরি রবের কাছে পেশ করা প্রতিটি মুসলমানের আজন্ম লালিত স্বপ্ন। উমরাহ কেবল পরকালের পাথেয় নয়, বরং এটি ইহকালেও মানসিক প্রশান্তি এবং রিজিকে বরকত বয়ে আনে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, যোগ্যতা ও সময়
- পাসপোর্টঃ একটি বৈধ পাসপোর্ট যার নূন্যতম মেয়াদ ৬ (ছয়) মাস মেয়াদ অবশিষ্ট আছে।
- নিজ প্রমান পত্রঃ জাতীয় পরিচয় পত্রের মূল কপি/স্ক্যান কপি।
- ছবিঃ পাসপোর্ট সাইজের সাদা ব্যাগ্রাউন্ডের ছবি প্রিন্ট কপি/সফ্ট কপি ১ কপি।
- ভিসার সময়ঃ পাসপোর্ট জমা দেওয়ার ২৪ (চব্বিশ) ঘন্টার মধ্যে ভিসা সরবরাহ করা হইবে।
- ভিসা ও বিমাঃ উমরাহ ভিসা ফি এবং স্বাস্থ্য বিমা।
প্যাকেজ মূল্য এবং অন্তর্ভুক্ত সুবিধা সমূহ
- প্যাকেজ মূল্যঃ এই প্রাকেজটির সকল প্রকার ভ্যাট/ট্যাক্স সহ মোট মূল্য ৪,৫০,০০০/- (চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা) । উল্লেখিত মূল্য সময়ের সাথে কম/বেশি হতে পারে। মূল্য কম/বেশি হলে যাত্রী সাধারণকে অবহিত করা হবে।
- বিমান টিকিটঃ ঢাকা – জেদ্দা, মদিনা – ঢাকা রুটে সকল ট্যাক্সসহ ইকোনোমি ক্লাসের ফুড এ্যালাউন্স সহ রাউন্ড ট্রিপ টিকিট।
- হোটেল আবাসনঃ প্রথম ০৮ রাত মক্কায় এবং পরবর্তী রাত গুলো মদিনার হোটেলে থাকার ব্যবস্থায়। প্রতিটা হোটেল ৪ তারকা মানের হোটেল হবে। একটি রুমে সর্বোচ্চ ২ (দুই) জন করে থাকবে। প্রত্যেকের জন্য আলাদা বিছানার ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি রুমে একটি এ্যাটাচ বাথরুম থাকবে।
- খাবারঃ হোটেলে প্রতিদিনের শুধু মাত্র সকালের নাস্তা । সকালে ও সন্ধ্যায় চা/কফির ব্যবস্থা।
- জমজম এর পানিঃ অত্র প্রতিষ্ঠানের পক্ষথেকে প্রত্যেককে ৫ লিটারের একটি করে জমজম এর পানির বোতল বিনামূল্যে প্রদান করা হবে।
- পরিবহন সেবাঃ হোটেল থেকে বিমানবন্দর – এবং বিমানবন্দর থেকে হোটেল পর্যন্ত যাতায়াত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠান বহন করবে। এবং মক্কায় হোটেল থেকে হেরেম চত্তর পর্যন্ত ফ্রী শ্যাটল বাস সার্ভিসের মাধ্যমে যাতায়াত করতে হবে। এবং মদিনায় পায়ে হেটে যাতায়াত করতে হবে। মক্কা ও মদিনায় ঐতিহাসিক স্থানসমূহ পরিদর্শনের ক্ষেত্রে পরিবহণ খরচ প্রতিষ্ঠান বহণ করবে।
- ভিসা ও বিমাঃ উমরাহ ভিসা ফি এবং স্বাস্থ্য বিমা।
- গাইডঃ বাংলা ভাষায় উমরাহ নির্দেশিকা
- জিয়ারাহঃ মক্কা ও মদিনার পবিত্র ঐতিহাসিক স্থানসমূহ পরিদর্শনের ব্যবস্থা (Sightseeing)।
- মুয়াল্লিমঃ উমরাহ পালনের সময় সহযোগিতার জন্য নিবেদিত বাঙালি মুয়াল্লিম।
প্যাকেজের বহির্ভুত বিষয়
- দুপুর ও রাতের খাবারঃ মক্কা এবংমদিনায় দুপুরের ও রাতের খাবার প্রত্যেকে নিজ নিজ খরচে খেতে হবে। জনপ্রতি দৈনিক আনুমানিক ২৫-৩০ রিয়েল খরচ হতে পারে। এখানে উল্লেখ্য যে, যদি দলগত ভাবে খাবার কিনে খাওয়া হয় তবে জন প্রতি দৈনিক খরচ ১০-১৫ রিয়েলের মধ্যে হয়ে যাবে।
- ব্যাক্তিগত/অন্যান্য খরচঃ উপরে উল্লেখিত খরচ ব্যাতিরেকে সকল খরচ নিজ খরচে বহন করতে হবে।
- অতিরিক্ত ভ্রমণঃ জেদ্দা, তায়েফ, হুদায়বিয়া, ওয়াদি জিন, খন্দক প্রান্তর, ওহুদ পাহাড়, বদর প্রান্তর ইত্যাদি ভ্রমণ।
নীতিমালা/শর্তসমুহ
- পেমেন্টঃ পাসপোর্টের সাথে ৮০% টাকা জমা প্রদান করতে হবে এবং অবশিষ্ট ২০% টাকা বিমানের টিকিট হস্তান্তর করার সময় প্রদান করিতে হইবে।
- ফেরত/অফেরতযোগ্য বিষয়ঃ ভিসা ইস্যু হবার পর বিমান টিকেট ছাড়া অন্যান্য সকল খরচ অফেরতযোগ্য। তবে বিমান টিকিটের ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সের নীতিমালা অনুযায়ী পরিবর্তন বা রিফান্ড চার্জ প্রযোজ্য হবে।
- মালামাল বহনঃ এয়ার টিকিটে উল্লেখিত ওজনের অতিরিক্ত ওজনের কোন মালামাল বহন করা যাবেনা। এখানে যদি কেউ উল্লেখিত ওজনের অতিরিক্ত ওজন বহন করেন তবে উক্ত অতিরিক্ত ওজেনের জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ডিউটি ফি উক্ত ব্যক্তিকে নিজ দায়ীত্বে বহণ করতে হবে।
- স্বর্ণ বহনঃ বাংলাদেশ সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী একজন ব্যক্তি ৯ (নয়) ভরির অতিরিক্ত স্বর্ণ বহণ করতে পারবেন না। উল্লেখিত পরিমাণ স্বর্ণ অবশ্যই ব্যাক্তিগত ব্যবহারের জন্য হতে হবে। ব্যবসার জন্য কোন স্বর্ণ বা অন্য কোন পণ্য পরিবহণ সম্পূর্ণ নিসিদ্ধ।
- ইলেক্ট্রনিক্স মালামালঃ বাংলাদেশ সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী একজন ব্যক্তি যে কোন ধরণের ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য যেমন মোবাইল, ল্যাপটপ, ক্যামেরা, প্রোজেক্টর, টেলিসকোপ, টেলিভিশন, মনিটর ইত্যাদি ১ (এক) টির বেশি বহণ করতে পারবেন না।
- অন্যান্য মালামালঃ বাংলাদেশ সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী একজন ব্যক্তি ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য ব্যাতিত যে কোন ধরণের প্রসাধনি একই মডেলের ২টির বেশি বহণ করতে পারবেন না। এমনটা যাতে মনে না হয় যে আপনি পণ্য ব্যবহারের জন্য নয় ব্যবসার জন্য বহণ করতেছেন।
- দেশে প্রত্যাবর্তণঃ যেহেতু এটি একটি দলগত (গ্রুপ) ভ্রমণ, সেহেতু সকলকে একই সাথে যাওয়া এবং একই সাথে দেশে ফেরত আসা ব্যাধ্যতামূলক। জরুরী কোন প্রয়োজন ছাড়া একক ভাবে দেশে ফেরত আসা যাবেনা। উল্লেখ্য যে, যদি জরুরী প্রয়োজনে এয়ার টিকিট রিশিডিউল করার প্রয়োজন হয় তবে উক্ত রিসিডিউল খরচ নিজ খরচে বহণ করতে হবে।